রূপসী বাংলার কবি হিসেবে খ্যাত জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি—এটি মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত। কেউ কেউ ১৮ ফেব্রুয়ারিও লেখেন। কিন্তু তার বাংলা ও খ্রিষ্টীয় তারিখের মধ্যে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, সেটি বিশ্লেষণ করলে তার জন্মদিন হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি—যে তারিখের কথা কেউ লেখেননি।
‘আমার জন্ম হয়েছিল বরিশালে ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ফাল্গুন মাসে।’ ১৯৪৬ সালের ২ জুলাই বরিশালের সর্বানন্দ ভবন থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে সুহৃদ প্রভাকর সেনকে স্বয়ং জীবনানন্দ লিখলেন এই কথা। অর্থাৎ জন্মসাল লিখেছেন ইংরেজিতে। কিন্তু মাস বাংলায়। তাও তারিখ অনুল্লিখিত। কিন্তু কেন? তিনি নিজে কি বাংলা ও ইংরেজি তারিখটি জানতেন না?
শিশু জীবনানন্দ দাশ
জীবনানন্দের মৃত্যুর কয়েক মাস পরে তার সবশেষ কর্মস্থল কলকাতার হাওড়া গার্লস কলেজ যে স্মরণিকা প্রকাশ করে সেখানে ছোটভাই অশোকানন্দ দাশও ইংরেজি তারিখটি এড়িয়ে গেছেন। ‘আমার দাদা জীবনানন্দ দাশ’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ নিবন্ধে অশোকানন্দ লিখেছেন, ‘আমার দাদা জীবনানন্দ দাশ ১৩০৫ সালে ৬ই ফাল্গুন বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন।’ তার মানে তিনি বাংলা তারিখটির ব্যাপারে নিশ্চিত হলেও ইংরেজিটা লেখেননি অথবা সচেতনভাবেই ইংরেজি তারিখটি এড়িয়ে গেছেন। জীবনানন্দ এবং অশোকানন্দ—উভয়ের এই এড়িয়ে যাওয়াতেই ‘গণ্ডগোলটা’ পেকেছে। কেননা জীবনানন্দ অনুরাগীরা তার জন্মমৃত্যু দিবস পালন করেন বা তাকে স্মরণ করেন মূলত ইংরেজি তারিখে।
হাওড়া গার্লস কলেজ পত্রিকার জীবনানন্দ স্মৃতি সংখ্যা, ১৯৫৫
জীবনানন্দের মৃত্যুর খ্রিষ্টীয় তারিখটি নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি বা দ্বিমত নেই। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর রাতে তিনি যে মারা গেছেন, সে বিষয়ে সবাই নিশ্চিত এবং ওই সময়ের পত্র-পত্রিকা, স্মৃতিচারণমূলক লেখা ও বইপত্রেও প্রকাশিত। কিন্তু জীবনানন্দের জন্মের ইংরেজি তারিখটি নিয় বিভ্রান্তি এতটাই যে, এ নিয়ে খোদ গবেষকদের মধ্যেও কোনো ঐক্য নেই। বরং তার জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি—এই দুটি তারিখের পক্ষেই মতামত বেশ জোরালো। তবে এর সমাধান সূত্র হলো বাংলা তারিখ। অর্থাৎ ৬ ফাল্গুন। ১৩০৫ সালে ৬ ফাল্গুন ইংরেজি কত তারিখ ছিল, সেটি বের করা এখন খুব কঠিন নয়।
জীবনানন্দের পূর্ণাঙ্গ জীবনীকার হিসেবে খ্যাত প্রভাতকুমার দাস লিখেছেন: কীর্তনখোলা নদীর তীরে বরিশাল শহর।…গাঁ-গৃহস্থবাড়ি গাছপালা শস্য ফসল ঘেরা মনোরম পটে লেখা মফস্বল শহরে ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯ (বঙ্গাব্দ ৬ ফাল্গুন ১৩০৫) শুক্রবার জন্মগ্রহণ করেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। (প্রভাতকুমার দাস, জীবনানন্দ দাশ, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি/১৯৯৯, পৃ. ১)। এখানে প্রভাতকুমার ১৭ ফেব্রুয়ারি এবং শুক্রবার দুটি ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
জীবনানন্দের স্কেচ, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, ২০০১
ইংরেজি (গ্রেগরিয়ান) এবং বাংলা তারিখের মধ্যে পার্থক্য ৫৯৩ বছর। যেমন গ্রেগরিয়ান তারিখ ৫৯৪ বছর হলে, বাংলা তারিখ ১ বছর। অনলাইনে সফটওয়্যার পাওয়া যায় যেখানে সহজেই বাংলা ও ইংরেজি তারিখ কনভার্ট করা যায়। সেরকম একাধিক সফটওয়্যারে কনভার্ট করে দেখা গেছে ১৮৯৯ সালের ক্যালেন্ডারে ১৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার। কিন্তু বাংলা তারিখ ৪ ফাল্গুন। অথচ অশোকানন্দ লিখেছেন ৬ ফাল্গুন। জীবনানন্দ নিজে অবশ্য তারিখটি লেখেননি। তার মানে এখানে সমস্যা শুধু ৪ ও ৬ ফাল্গুনের। প্রভাতকুমারের হিসাব অনুযায়ী ১৭ ফেব্রুয়ারি এবং শুক্রবার এখানে মিলছে।
১৩০৫ সালের ৬ ফাল্গুন হয় ১৮৯৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি এবং সেই দিনটি ছিল রবিবার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, গবেষকরা কেন ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ করলেন? নাকি এখন কনভার্ট করলে বাংলাদেশের পরিবর্তিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ফলাফল দেখাচ্ছে?
প্রসঙ্গত, জীবনানন্দের জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে—তিনটিই যে শুক্রবার সেটিও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়। যেমন ১৯৩০ সালের ৯ মে দিনটি ছিল শুক্রবার। বাংলায় এদিন ছিল ১৩৩৭ সালের ২৬ বৈশাখ। কনভার্ট করলেও এই দিনটিতে বাংলা ও খ্রিষ্টীয় তারিখে কোনো সংঘাত তৈরি হয় না। অর্থাৎ ১৯৩০ সালের ৯ মে বাংলায় ১৩৩৭ সালের ২৬ বৈশাখ এবং শুক্রবারই ছিল।
জীবনানন্দের মৃত্যুর তারিখ ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর। সেদিনও ছিল শুক্রবার। বাংলা তারিখ ১৩৬১ সালের ৫ কার্তিক। কিন্তু কনভার্ট করলে ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর শুক্রবার দেখালেও বাংলা তারিখ দেখাচ্ছে ৬ কার্তিক। তার মানে বাংলা তারিখ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকছেই।
বিয়ের পিঁড়িতে জীবনানন্দ দাশ ও লাবণ্য গুপ্ত
প্রভাতকুমার দাস লিখেছেন, ১৯৮৪ সালে নববর্ষে পশ্চিমবঙ্গ পুস্তক পর্ষদ কবির বহুপরিচিত মুখমণ্ডলের রেখাচিত্র সংবলিত যে ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে, তাতে তার জন্মতারিখ মুদ্রিত হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। এই উল্লেখের উৎস সম্ভবত অঞ্জলি বসু সম্পাদিত চরিতাভিধান (১৯৭৬) গ্রন্থ। প্রভাতকুমার দাসের দাবি, পুরাতন পঞ্জিকা অনুসরণ করে বাংলার সনতারিখ অনুসারে ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখটিই যে যথাযথ সে বিষয়ে সুনিশ্চিত হওয়া গেছে। উল্লেখ্য, পরবর্তীকালে এই তারিখটিই সর্বত্র ব্যবহৃত হয়। ২০০৬ সালে ঐতিহ্য ৬ খণ্ডে জীবনানন্দের যে রচনাবলি প্রকাশ করেছে, সেখানেও ইংরেজি জন্মতারিখ লেখা হয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কলেজ ও হাসপাতালে জীবনানন্দের যে ভাস্কর্য ও ম্যুরাল রয়েছে, সেখানে ১৭ ফেব্রুয়ারি উল্লিখিত হয়েছে। বরিশাল শহরের বগুড়া রোডে (বর্তমান নাম জীবনানন্দ দাশ সড়ক) পারিবারিক বাড়ি সর্বানন্দ ভবনের (পরবর্তীকালে নাম দেয়া হয় ধানসিড়ি) কম্পাউন্ডে তার নামে যে লাইব্রেরি বানানো হয়েছে, সেখানের প্রবেশপথের ম্যুরালেও জন্মতারিখ লেখা আছে ১৭ ফেব্রুয়ারি।
তবে ১৭ নাকি ১৮—সেই তর্ক এড়াতে কিছুটা কৌশলী আবদুল মান্নান সৈয়দ। জীবনানন্দের জীবনালেখ্যতে (আবদুল মান্নান সৈয়দ রচনাবলি, বাংলা একাডেমি/২০১৭, পৃ. ৭৮৩) তিনি লিখেছেন, জীবনানন্দ দাশ জন্মেছিলেন ১৮৯৯ সালের ১৭/১৮ই ফেব্রুয়ারি বরিশাল শহরে। তার মানে ১৭, ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বাংলা তারিখ যে ৬ ফাল্গুন ১৩০৫, সে বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। ফলে জীবনানন্দের জন্মদিন উদযাপনের ক্ষেত্রে বাংলা তারিখ অগ্রাধিকার দেয়া তথা প্রতি বছরের ৬ ফাল্গুন পালন করাটাই শ্রেয়। এ বছর ৬ ফাল্গুন পড়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি বুধবার।
বাংলা ও ইংরেজি তারিখ কনভার্টার
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত ঐতিহাসিক দিবসগুলোকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সাথে সমন্বয় করার জন্য ২০১৯ সালে বাংলা ক্যালেন্ডার পরিবর্তন আনা হয়। যেমন পয়লা ফাল্গুন। অর্থাৎ বসন্তের প্রথম দিনটি একসময় পালন করা হতো খ্রিষ্টীয় সনের ১৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু বঙ্গাব্দ ১৪২৬ থেকে বাংলা ফাল্গুন মাসের প্রথম সেই দিনটি চলে যায় ১৪ ফেব্রুয়ারিতে।
ওই বছর থেকে বছরের প্রথম ছয় মাস হচ্ছে ৩১ দিনে। এর আগে বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র—বছরের প্রথম এই পাঁচ মাস ৩১ দিন গণনা করা হত। কিন্তু ১৪২৬ বঙ্গাব্দ থেকে ফাল্গুন মাস ছাড়া অন্য পাঁচ মাস ৩০ দিনে পালন করা হচ্ছে। ফাল্গুন মাস হচ্ছে ২৯ দিনের। কেবল লিপইয়ারের বছর ফাল্গুন ৩০ দিনের মাস হবে।
ক্যালেন্ডারে এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৬ই ডিসেম্বর, ২৬শে মার্চের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যে দিনে হয়েছিল, সেই দিনে পালন করা। যেমন ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছিল ৮ই ফাল্গুন। ফলে এখন থেকে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে বাংলা ৮ই ফাল্গুন ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, অর্থাৎ বাংলাদেশের বিজয়ের দিনটি ছিল পয়লা পৌষ। ফলে ১৪২৬ সাল থেকে ১৬ ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে পয়লা পৌষ।
সেই হিসাবে ১৩০৫ বঙ্গাব্দের ৬ ফাল্গুন খ্রিষ্টীয় বছরের ১৭, ১৮ নাকি ১৯ ফেব্রুয়ারি ছিল, সেটি সঠিকভাবে নিরূপণ করে বাংলা তারিখের সঙ্গে মিল রেখে জীবনানন্দের জন্মের ইংরেজি তারিখটিও রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা দরকার। কেননা, বাংলাদেশের রূপ ও প্রকৃতি, নদী, বৃক্ষলতাগুল্ম জীবনানন্দের কবিতায় যতটা ব্যাপকভাবে এসেছে, সেটি আর কোনো কবির কবিতায় দেখা যায় না। ফলে জীবনানন্দ দাশই বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের কবি। জাতীয় কোনো স্বীকৃতি তিনি পান বা পান, অন্তত যে দেশে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা এবং ১৯৪৭-এ দেশভাগের সময় পর্যন্ত যিনি এই দেশে বসবাস করেছেন, তার জন্মতারিখের বিভ্রান্তিটি দূর করা দরকার।
পরিশেষে
কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালের জীবনানন্দ দাশ ভবন
জীবনানন্দের জন্মসাল নিয়েও কিছুটা বিতর্ক ছিল। তার স্ত্রী লাবণ্য দাশ জন্মসাল লিখেছেন ১৮৯৮। যদিও এই তারিখটি কোথাও ব্যবহৃত হয়নি। সম্ভবত লাবণ্য ভুলবশত ১৮৯৮ লিখেছিলেন অথবা এটি ছাপার ভুল ছিল। কারণ গবেষকদের সবাই এ ব্যাপারে একমত যে, জীবনানন্দের জন্ম ১৮৯৯ সালে। জীবনানন্দ নিজেও লিখেছেন ১৮৯৯।
তবে এটা ঠিক যে, জীবনানন্দের জীবনটাই আগাগোড়া রহস্যময়। যেমন যে হেমন্তের প্রতি ছিল তার দারুণ পক্ষপাত, সেই হেমন্তের রাতেই তিনি মারা যান। হেমন্তে তিনি মরে যাচ্ছেন, এরকম ইঙ্গিত তার একাধিক কবিতায় আছে। তিনি মারা গেছেন ট্রামের মতো অতি ধীর একটি বাহনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছে। রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে যান এবং সেখানে অচেতন হয়ে পড়ে থাকেতার রক্তাক্ত শরীর। হাসপাতালের বিছানায় ছিলেন এক সপ্তাহ। কলকাতা শহরের ফুটপাথের বর্ণনা আছে এমন একটি কবিতার লাইন আছে:
‘এই যে ট্রামের লাইন ছড়িয়ে আছে
পায়ের তলে, সমস্ত শরীরের রক্তে এদের
বিষাক্ত স্পর্শ অনুভব করে হাঁটছি আমি।’
তার মানে ট্রাম লাইনের বিষাক্ত স্পর্শ অনুভব করার কথা তিনি জানতেন?
শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালের দেয়ালে জীবনানন্দের কবিতা
১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় ট্রামের ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়ার পরে কলকাতা শহরের শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। যে রুমে তিনি মারা যান, তার দেয়ালে এখনও তার একটি কবিতার অংশ লেখা চোখে পড়ে:
‘হাসপাতালের জন্য যাহাদের অমূল্য দাদন
কিংবা যারা মরণের আগে মৃতদের
জাতিধর্ম নির্বিচারে সকলকে—সব তুচ্ছতম আর্তকেও
শরীরের সান্ত্বনা এনে দিতে চায়,
কিংবা যারা এইসব মৃত্যু রোধ করে এক সাহসী পৃথিবী
সুবাতাস সমুজ্জ্বল সমাজ চেয়েছে—
তাদের ও তাদের প্রতিভা প্রেম সংকল্পকে ধন্যবাদ দিয়ে
মানুষকে ধন্যবাদ দিয়ে যেতে হয়।’
তিনি কি জানতেন যে, এভাবে একদিন ট্রামের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হবেন এবং ডাক্তার, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের সেবাশুশ্রুসা পাবেন এবং এ কারণে ধন্যবাদটা আগেই দিয়ে গেছেন? সুতরাং এরকম একজন মানুষের জন্মতারিখ নিয়ে যে বিভ্রান্তি, যে কুহক—সেটিও বোধ হয় খুব অস্বাভাবিক নয়।